Womens freedom and womens priority নারী স্বাধীনতা ও নারীর অগ্রাধিকার

0
47
Womens freedom and womens priority

আজকের ভারত যে একশো কোটির অধিক মানুষের দেশে পরিণত হয়েছে , এই জনসংখ্যাই হল তার নিহিত শক্তি । তাদের উদ্যম , সাধারণ বুদ্ধি – বিবেচনা আর দক্ষতা নিয়ে ভারতবাসী বিশ্বের মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে দৃঢ় ও নিশ্চিত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে । এসব মেনে নিয়েও এবার যদি অবশেষে দেশের সব মানুষ , বিশেষত সব মহিলার ক্ষমতায়ন ঘটানো সম্ভব হয় , তা হলে কেমন হবে ?

Womens freedom and womens priority

স্বাধীনতা এবং অগ্রাধিকার নারীদের জন্য মুক্তির প্রতীক। এই মহান বাংলা দিবসে, আমরা উজ্জ্বল জীবনের নারী সমাজের উপহার মানিব। নারীর পাশাপাশি থাকবার জন্য সমগ্র সমাজ দায়িত্বশীল হবে এবং নারীকে তার স্বপ্নকে সকল বিধান প্রদান করবে। বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতা ও অগ্রাধিকারের অর্জনে বিজয়ী হতে আমরা সবাই সক্ষম। একটি সমর্থন সংস্থার রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে নারীদের সমর্থন করতে পারি। সব নারীকে উন্নত ও দারিদ্র্য মুক্ত সমাজের মাঝে স্থান দেওয়া উচিত। নারী স্বাধীনতা ও অগ্রাধিকার অর্জন করলেই সমাজ এবং দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। আসুন সবাই মিলে এই স্বাধীনতার পথে নারীদের সাথে থাকি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদান করি।

Also Read Olympic অলিম্পিক গেমস 2026

মহিলাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যে ধরণের পরিকাঠামো আর পরিষেবা প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্য , তা দাবি করার মত আত্মবিশ্বাস তাদের থাকলে , তারা প্রকৃতপক্ষে দেশে এমনই এক অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তির উত্থান করে উঠতে পারেন , যা ভারতের চেহারাটাই পাল্টে দেবে নাটকীয়ভাবে ।

এদেশে মহিলাদের অর্ধেকের বেশি এখনও অক্ষরজ্ঞান বঞ্চিত । অথচ না পারে পড়তে , না পারে লিখতে । মেয়েদের স্বাধীনশীল ও স্বনির্ভর করে তুলতে পারলে তারা নিজেরাই নির্ধারণ করে উঠতে পারবে তাদের কটি সন্তান হওয়া উচিত কিংবা ঠিক কখন তারা গর্ভধারণ করবে । এর সুফল ভোগ করবে আমাদের দেশ ও সেই মহিলাটির পরিবার । এতে জন্মহার যেমন কমবে , তেমনই ভাবী প্রজন্ম হবে স্বাস্থ্যবান ও শিক্ষিত । Read more

একথা সত্যি যে , এদেশে এমন কিছু মহিলা সত্যিই আছেন যিনি সঠিক অর্থে সচেতন ও ক্ষমতাশীল । কিন্তু তাদের সংখ্যাটা বড়ই কম । আমরা অবশ্য হাতে গোনা কয়েকজন মহিলার সম্পর্কেই জানতে পারি যারা জীবনে সফল । আমাদের সম্বল এইটুকুই । কিন্তু ওরা আমাদের গর্ব , আর সেই সঙ্গে বাকি অনেক মহিলাদের সামনে * প্রেরণার উৎসও বটে ।

ভারতে মহিলারা যে ক্রমশ সমাজে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । শুধু রাজনীতির মহলেই নয় , তাদের ভূমিকাটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রেই । বহু পুরনো গোঁড়ামি আর সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অনেক মহিলাই নিজ নিজ সংস্থার শীর্ষে পৌঁছেছেন কিংবা নিজের ব্যবসাকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের চূড়ায় । এ সবই সম্ভব হয়েছে তাদের শিক্ষা ও দূরদর্শিতার দৌলতে এটা আজ অনস্বীকার্য ।

সনাতন ঐতিহ্যের এই দেশে অবশ্য এখনও মেয়েরা রীতিমতো চাপের মধ্যে রয়েছেন । যে সব মহিলারা ব্যবসাতে এসেছেন , তাদেরও পরিবারের ঐতিহ্য মেনে নিজ নিজ গণ্ডির মধ্যে থাকার জন্য চাপ আসে । গত তিরিশ বছরে কর্পোরেট জগতে মেয়েদের বলার মত সাফল্য এসেছে ঠিকই , কিন্তু তবুও পারিবারিক জীবন যাতে তেমন সমস্যায় না পড়ে সে জন্য সব মেয়েদের ওপরেই পরিবারের মধ্যে থেকেই চাপ আসে ।

ললিতা গুপ্তে , কল্পনা মোরপারিয়া , অনু আগা , কিরণ মজুমদার শ এবং সিমোন টাটার মতো মুষ্টিমেয় কয়েকজন মহিলা পারিবারিক জীবন ও কাজের ক্ষেত্রে সামাজিক দায় সামলেও সব বাধা পেরিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন ।

মেয়েরা যে এ দেশে সাফল্য পাচ্ছেন তার একটা কারণ হল , এদেশে প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষাকে যথেষ্ট মূল্য দেওয়া হয় । তাই যেসব মহিলা শিক্ষাগত দিক থেকে কৃতি , তাদের যথেষ্ট চৌখস বলে ধরে নেওয়া হয় । ক্ষমতায়নের প্রথম সোপান অবশ্যই শিক্ষা , যা আমরা এখনও অনেককেই জোগাতে পারিনি ।

এ দেশের বাস্তব ছবিটা একটু খুঁটিয়ে দেখতে বললে হয়তো রূঢ় শোনাতে পারে । আমরা একদিকে যখন প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান পাওয়ার সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত , ঠিক তখনই চোখে পড়ে কন্যা ভ্রূণ হত্যার মত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা । লিঙ্গ বৈষম্য , মহিলাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দৃষ্টান্তই এখানে প্রচুর । এটা আমাদের সবার কাছেই এক লজ্জাজনক বিষয় ।

আমাদের সবাইকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে দাঁড়াতে হবে নিজেদের বিবেকের সামনে । সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে মেনে নিতেই হবে , যে মহিলা শিশু পালন করে , সেই একই মহিলা বিশ্বে রাজ করতে পারে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here