Environmental pollution and its remedies পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

1
53
Environmental pollution and its remedies

Environmental pollution and its remedies পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার(অনুচ্ছেদ)

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার e প্রাণের বিকাশের সঙ্গে পরিবেশের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক । প্রকৃতি ও মনুষ্যসৃষ্ট এবং জাগতিক পরিবেশের অভিপ্রেত সাম্যাবস্থা বজায় থাকলে চলে না । জীবনকে উন্নত করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান যখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করল , অমনি পরিবেশ আর আগের মত রইল না । প্রকৃতির সঙ্গে তার যে সাম্যাবস্থা দীর্ঘকাল ধরে বজায় ছিল , তা বিঘ্নিত হতে শুরু করল ।

Environmental pollution and its remedies

পরিবেশ আমাদের কাছে জীবনদাত্রীর মত । পরিবেশ থেকে আমরা জীবন ধারণের নানা উপকরণ সংগ্রহ করি । যে অক্সিজেনের অভাবে আমাদের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা , তা এই পরিবেশই আমাদের সরবরাহ করে । যে খাদ্য গ্রহণ করে আমরা বেঁচে থাকি , তা এই পরিবেশেরই দান ।

কিন্তু মানব জীবনের বিপুল চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে আমরা যখন বন কেটে বসত তৈরী করি , কারখানা , গাড়ি , সড়ক বানাই , রেল লাইন পাতি , অমনি পরিবেশ বদলে যায় , প্রকৃতির সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হতে থাকে । এইভাবে যে সভ্যতার ছোঁয়াচ লাগে আমাদের জীবনে , আমাদের জীবনযাত্রায় সে সভ্যতার বৈশিষ্ট্য — প্রকৃতির উপরেই আধিপত্য বিস্তার । আমাদের জীবনযাত্রায় আজ একদিকে বিজ্ঞানের বিজয় গৌরব , অন্যদিকে দূষণের দুঃস্বপ্ন । পরিবেশ দূষিত হয় প্রধানত বায়ু দূষণ , জল দূষণ এবং শব্দ দূষণের মাধ্যমে ।

Also Read Student Society স্বাধীন ভারতে ছাত্রসমাজ

পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের সঙ্গে আরও কতগুলি গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে । নির্গত গ্যাসগুলির মধ্যে বিষাক্ত কার্বন মনো অক্সাইড গ্যাসও থাকে । কলকারখানার ক্ষেত্রে যে দূষিত পদার্থ কালো চুল্লী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বাতাসকে বিষাক্ত করে তোলে , তার পরিণতির কথা ভাবলে যে কোন সুস্থ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠবেন । সরকার একে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করেছেন , কিন্তু একে রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি নেওয়া এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি । আজ বিজ্ঞানীরা মনে করেছেন , মাথাধরা , শ্বাসরোগ , হাঁপানি , ফুসফুসে ক্যানসার প্রভৃতি রোগ যে ক্রমবর্ধমান , তার মূল কারণ বায়ু দূষণের মাত্রাবৃদ্ধি । গ্রামের মানুষও আজ বায়ুদূষণের কবলিত ।

জলের অন্য নাম জীবন । সেই জল যদি কোন কারণে দূষিত হয়ে পড়ে , তাহলে আমাদের জীবন সঙ্কটময় হয়ে ওঠে । শিল্প উৎপাদনে নিয়োজিত বিভিন্ন ধরণের কারখানায় নানাবিধ রাসায়নিক ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের বর্জ্য বস্তু নিয়মিতভাবে নদীগর্ভে নিক্ষিপ্ত হয় । হুগলী নদীগর্ভে নিক্ষিপ্ত বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ নদীর জলকে কতটা দূষিত করে সঠিক বিচারে তা বলা শক্ত । তার উপরে গৃহস্থালি এবং মিউনিসিপ্যাল আবর্জনা সেই দুষণক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে তুলছে ।

জলাশয়ের জল যেখানে পানীয় জলের একমাত্র অবলম্বন , সেখানে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার গুরুতর আশঙ্কা আছে । জল দূষণ আধুনিক সভ্যতার এক অভিশাপ । গ্রামে নদীর জলে , পুকুরে প্রচুর নোংরা ফেলা হয় , পাট পচানো হয় , নদীতে শবদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় । ফলে জল হল দূষিত ।

বায়ু দূষণ এবং জল দূষণের সঙ্গে সঙ্গে শব্দ দূষণের কথাও উল্লেখ করতে হয় । শহরের শব্দ দূষণের মাত্রা সর্বাধিক । রাস্তাঘাটে মোটরগাড়ির হর্ণ , কলকারখানার আওয়াজ , বাজি , বোমা , রেডিও টেলিভিশন , মিছিলের ধ্বনি – প্রতিধ্বনি , মাইকের চড়া সুর — এ সবই স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করে আমাদের পারিপার্শ্বিক শান্তিকে বিঘ্নিত করছে । দীর্ঘকাল এই ধরণের দূষিত শব্দের পরিমণ্ডলে থাকলে আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অবনতি ঘটে , মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয় , স্নায়ুরোগের লক্ষণ দেখা দেয় ।

দূষণের ভয়াবহ পরিণাম লক্ষ্য করে আজ বিশ্বের সভ্যসমাজ আতঙ্কিত । হিরোসিমা – নাগাসাকির মারণ বোমা বিস্ফোরণের কথা আমরা ভুলি নি । ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ভূপালের ইউনিয়ন কারবাইড কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের নিগমনে ব্যাপক হারে যে জীবন ও স্বাস্থ্য হানি হল , পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে তা আমাদের আর একবার সতর্ক করে দিল ।

পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের জন্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু কিছু করণীয় আছে । জনবসতি ও সভ্যতার সম্প্রসারণের প্রয়োজনে নির্বিচার অরণ্য ছেদন বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন । তাছাড়া অরণ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলেও , যেখানে সুযোগ আছে সেখানেই গাছ লাগানো দরকার । যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থযুক্ত কালো ধোঁয়া যাতে বন্ধ করা যায় , তার জন্য পুরনো ইঞ্জিনচালিত গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । এ বিষয়ে সরকারী সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী ।

কলকারখানা থেকে দূষিত পদার্থ নির্বিচারে নদীতে না ফেলাই সমীচীন অথবা এগুলি ফেলার পূর্বে প্রয়োজন মতো শোধন করে নেওয়া অবশ্য প্রয়োজন । শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণও কঠিন কাজ নয় । ইলেকট্রিক হর্ণ , মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত করলেই সে উদ্দেশ্য অনেকাংশে সিদ্ধ হয় । একদিকে আধুনিক জীবনযাত্রার প্রয়োজন অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ রোধ — উভয় দিকে লক্ষ্য রেখে চলা সহজ কথা নয় । তবু মানবজাতি সচেতন হলে এবং সমাজব্যবস্থা সহায়তা করলে , পরিবেশ দূষণের অবসান ঘটানো যাবে , তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে , এমন আশা করা অসঙ্গত নয় ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here