Computer and Facebook কম্পিউটার ও ফেসবুক

0
95
Computer and Facebook

Computer and Facebook কম্পিউটার ও ফেসবুক

বিজ্ঞান বিস্ময় : কম্পিউটার

শিল্পবিপ্লব মানবসমাজের গঠন ও প্রকৃতিতে এনে দিয়েছিল এক বিপুলবিস্তারী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন । পাটকল , কাপড়ের কল , বই ছাপার কল , কলের গান , বাষ্পীয় জাহাজ , বাষ্পীয় ইঞ্জিন চারদিকে যন্ত্রের প্রাধান্য ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠার শুরু আর মানুষের চোখে অবাক বিস্ময় । বিস্ময়ের প্রাথমিক ঘোর কাটার পর , মানুষ নিজেকে , নিজের শক্তির সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করল । এর পরের ইতিহাস যন্ত্রযুগের আত্মপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস । আর , এই পটভূমিতেই কম্পিউটারের আবিষ্কার ও বিকাশ ।

Computer and Facebook

আজকের দিনে কম্পিউটার এবং কম্পিউটার নির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা একদিকে যেমন যন্ত্রের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বহুগুণিত করে মানুষের কর্মদক্ষতাকে , উৎপাদনক্ষমতাকে বিপুলভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে , অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজকর্ম ও প্রয়োজনীয় হিসেব নিকেশ জাতীয় গতানুগতিক কাজকর্মের দায়িত্ব গ্রহণ করে অনাবশ্যক মানসিক শ্রমকে ব্যবহারিক অর্থে অনেক সহজ করে তুলেছে । Read more

কম্পিউটারের প্রয়োগ বিস্তৃতির মূল কারণ চারটি : এক , অত্যন্ত দ্রুত গণনা করার ক্ষমতা , দুই , বিপুল পরিমাণ তথ্যকে সুসংবদ্ধভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষমতা , তিন , ভ্রমশূন্যতা এবং চার , তথ্য ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা । এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি — অর্থাৎ ঐ চারটি বৈশিষ্ট্যকে যথার্থভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা । তাই কম্পিউটারের ব্যবহার আজ বিচিত্র ও বহুমুখী পথ ধরে এগিয়ে চলেছে ।

কম্পিউটারের ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্র কোন বিশেষ একটা জায়গায় সীমাবদ্ধ নয় । একদিকে কোন প্রতিষ্ঠানের সমস্ত হিসেব নিকেশ অথবা অন্যান্য গণনা কম্পিউটারের সাহায্যে করা যায় । কম্পিউটার এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারকে অবিকৃত ভাবে এবং সুসংবদ্ধভাবে মনে রাখতে পারে ।

অন্যদিকে আকাশে উড়ন্ত মহাকাশযান ও তার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বড় বড় কারখানায় উৎপাদনের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ কম্পিউটারের সাহায্যে করা যায় । সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে , কম্পিউটারের ব্যবহার বিভিন্ন ধরণের কাজকে আরও সহজ ও সাবলীল করে তুলেছে । কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং নির্ভুল ও দ্রুত গণনার ক্ষমতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার নানা গবেষণায় এক নতুন মাত্রার সংযোজন করেছে । কম্পিউটার চালিত রোবট কলকারখানায় গতানুগতিক ও রুটিন কাজকর্মের দায়ভার গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে ।

কমপিউটার প্রয়োগের ফলে সেই সব মানুষ অর্থহীন হয় , সৃষ্টি হয় বেকার সমস্যা । বিশেষ করে দরিদ্র অনুন্নত দেশে কমপিউটার এভাবে প্রবল সমস্যা সঙ্কটের সৃষ্টি করে । কম্পিউটার ব্যবহারকারী শারীরিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এর ব্যবহারের ফলে । এই যন্ত্র থেকে যে রশ্মি নির্গত হয় তা কখনো শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া রচনা করে ।

আজকের দিনে কম্পিউটারের প্রয়োগ এক অপ্রতিরোধ্য সঙ্কট নিয়ে আসছে— বেকারত্ব । যে সমাজে গতানুগতিক কাজ করে যাওয়াই জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় , সে সমাজে কম্পিউটার কর্মহীনতা আনবেই । মানবমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা একমাত্র এই সঙ্কট থেকে মুক্তি দিতে পারে ।

আধুনিকতার বিস্ময় ‘ ফেসবুক ’

আমাদের এখন দুই পৃথিবী — অন্তত পাঁচশো মিলিয়ন মানুষের তো তাই । নতুন পৃথিবীর নাম ‘ ফেসবুক ‘ — সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট । কথা বলা , মানুষের সঙ্গে পরিচয় , বন্ধুদের ফিরে পাওয়া , আড্ডা , খেলাধূলা , ব্যবসা – বাণিজ্য , এমনকি দেওয়াল – লিখন , সবই মজুত নবাগত এই ভার্চুয়াল রিয়ালিটি – তে । দুনিয়াটা হয়ে গেল ‘ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ‘ । জীবনযাত্রার ঘটল পরিবর্তন । বহু নতুন শব্দ যোগ হল অভিধানে , যার সঙ্গে প্রত্যেকটি মানুষ নিজেদের জড়িয়ে ফেলল । ক্রমে বিলাসিতার আবরণ থেকে বেরিয়ে কম্পিউটার হয়ে উঠল নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ।

প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে এই ভার্চুয়াল জগৎ । ২০০৪ – এ একে সমৃদ্ধ করতে , মানুষকে একেবারে তদগত করে রাখতে এল সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ‘ ফেসবুক ‘ । প্রথম নয় । এরকম আরও অনেক সাইটের সঙ্গে নেট স্যাভিদের পরিচয় ছিল । তবে ‘ ফেসবুক ’ ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল জ্বরের মতো । দৈনন্দিন কাজকর্ম ফেলে এই ভার্চুয়াল জগতে সবাই মাতোয়ারা । পার্থিব জগৎ যেন আর আকৃষ্ট করে না । সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট – টি ক্রমে ভার্চুয়াল পরিসর থেকে বেরিয়ে এসে রোজকার জীবনকে একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলল ।২০০৫ – এর শেষের দিকে , সমীক্ষা বলছে , আমেরিকার প্রায় ৮৫ শতাংশ পড়ুয়া রোজ লগ – ইন করত ‘ ফেসবুক ’ – এ । হাইস্কুলের পড়ুয়ারাও অল্প সময়ের ব্যবধানে ‘ ফেসবুক ’ ছড়িয়ে পড়ে । সদস্যের প্রয়োজন একটি মেল আইডি – র , আর বয়সসীমা নুন্যতম তেরো বছর ।

পৃথিবী জোড়া খ্যাতি বাড়তে থাকে ‘ ফেসবুক ’ – এর । তারাও নিজেদের আপডেট করতে থাকে । ‘ ফেসবুক’কে জিইয়ে রাখতে গেলে আরও টাকার প্রয়োজন । কিন্তু জাকারবার্গ কখনওই চাননি কোনও টিভি চ্যানেলের মতো , ধারাবাহিকতা বন্ধ করে বিজ্ঞাপন , দিতে । কী হবে তা হলে ? জাকারবার্গ তার সাঙ্গোপাঙ্গোদের নিয়ে তখন এক অভূতপূর্ব ।

বিজ্ঞাপন পদ্ধতি বার করে ফেলেন । বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের নিজস্ব পেজ তৈরী করতে পারেন । অনেকটা পার্সোনাল প্রোফাইল তৈরী করার মতো । সদস্যরা এ সব পেজ – এর ফ্রেন্ড লিস্ট – এ না থাকলেও ফ্যান লিস্ট – এ থাকতে পারেন । এই অভিনব ভাবনায় যখন টগবগ করছে সংস্থা , ঠিক সেই সময় গুগল – এর সিনিয়র এগজিকিউটিভ শেরিল স্যান্ডবার্গ ‘ ফেসবুক ’ – এর সঙ্গে যুক্ত হন ।

স্যান্ডবার্গ আসার পর ‘ ফেসবুক ‘ এর মনেটাইজেশন – এর আমূল রদবদল ঘটে । জন্ম নেয় ‘ এনগেজমেন্ট অ্যাড ‘ । প্রথম বছরেই এই কনসেপ্ট হইহই করে বাজারে বিক্রি হয় । আর প্রায় একশো মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায় । আরেকটি কনসেপ্ট বাজারে ছেয়ে যায় – কনজিউমার মনেটাইজেশন । ২০১০ – এর নতুন সংযোজন : ‘ Facebook ক্রেডিট । সদস্যরা ক্রেডিট কেনেন ‘ ফেসবুক ’ থেকে , যা দিয়ে বিভিন্ন খেলাতে ভার্চুয়াল জিনিসপত্র কেনা যাবে । এর থেকে তিরিশ শতাংশ চলে যাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বিরাট আলোড়ন ফেলেছে ‘ ফেসবুক ’ । বলা যেতে পারে । একটা ফেনোমেনন । শুধু সামাজিক প্রেক্ষাপটে নয় , বিজ্ঞাপনেও নতুন দিগন্তের সন্ধান জুগিয়েছে ।

ডেভিড ক্রিপ্যাট্রিক তাঁর বই ‘ দ্য ফেসবুক এফেক্ট ’ – এর এক জায়গায় লিখছেন , জাকারবার্গ ‘ ফেসবুক ’ কে কখনওই শুধু কোম্পানি বানাতে চাননি । আবার এটাও মনে করা ঠিক হবে না যে , লাভ বা ক্ষতির দিকে তাঁর নজর ছিল না । শুধুমাত্র একটা কোম্পানি হওয়া নয় , আসলে তিনি চেয়েছিলেন , এমন কিছু একটা করতে , যাতে গোটা দুনিয়ায় একটা বদল ঘটানো যায় । সেই বদল ঘটিয়ে ‘ ফেসবুক ’ এখন একমেবাদ্বিতীয়ম ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here