Communalism and Student Society সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ

0
126
Communalism and Student Society

Communalism and Student Society সাম্প্রদায়িকতা ও ছাত্রসমাজ


ছাত্রসমাজ

মানুষ নানা সম্প্রদায়ে বিভক্ত । তার বিভিন্নতার শেষ নেই । এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের থেকে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে । তখনই জন্ম নেয় এক হীন জাত্যাভিমান । এরই নাম সাম্প্রদায়িকতা । সাম্প্রদায়িকতা মানুষের যুগ – যুগান্তরের অভিশাপ , মানবতার কণ্ঠরোধকারী এক বর্বরতা ।

Communalism and Student Society

ভারতে কোটি কোটি মানুষের বাস । এখানে নানা সম্প্রদায় , নানা ধর্ম , নানা ভাষা । বিরোধ – বিভেদের নিত্য আস্ফালন । সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে পারস্পরিক তিক্ত সম্পর্ক । জ্বলে ওঠে হিংসার আগুন । সেই আগুনে পুড়ে মরে অসহায় মানুষ । কখনও কখনও একই সম্প্রদায়ভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণীর সঙ্গে হয় পাশব সংঘর্ষ । উচ্চবর্ণের সঙ্গে নিম্নবর্ণের সংঘাত । সংঘাত শাক্ত – বৈষ্ণব , শৈব – গাণপত , সিয়া – সুন্নির মধ্যে । বিরোধ কৃষ্ণাঙ্গে শ্বেতাঙ্গে । বিরোধ প্রাচ্যে – প্রতীচ্যে । এ ছাড়া আছে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী – বিরোধ । আছে রাজ্যে রাজ্যে বিরোধ । এ সবই সাম্প্রদায়িকতার রূপবদল ।

Also Read Environmental pollution and its remedies পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

সাম্প্রদায়িকতা এক দুরারোগ্য ব্যাধি । আইন – শৃঙ্খলার কঠোরতা দিয়ে এ রোগ সারানো যায় না । স্বার্থান্ধ মানুষের দল বার বার ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছে । চক্রান্ত করেছে শাসক – শোষকের দল । কখনও ধর্মের জিগির তুলেছে । কখনও বর্ণপ্রেমের কথা বলেছে । কখনও দোহাই পেড়েছে ভাষাপ্রীতির । এ ভাবেই সম্প্রদায়গত বিরোধের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে । ইংরাজী শিক্ষার মধ্যেই ছিল সেই বিভেদ নীতি । ছিল ঔপনিবেশিক চরিত্র । ইংরেজী শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করেছিল হিন্দু সম্প্রদায় ।

মুসলমান সমাজ সেই সুযোগ নিতে পারেনি । এতে হিন্দু মধ্যবিত্তের প্রাধান্য বিস্তার সহজতর হল । আর মুসলমান সমাজ হল হীনমন্যতার সহজ শিকার । চতুর ইংরেজ এর পূর্ণ সুযোগ নিল । মুসলমান সমাজ ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সচেতনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হলো । ইংরেজের কূটবুদ্ধি ভারতের দুই বৃহৎ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের আগুন জ্বালিয়েই রাখল । শাসকদল সব সময়ই হীন চক্রান্তের জাল বুনেছে । ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষা দেশের মূল জীবনপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি । শিক্ষা ব্যবস্থার এই অপূর্ণতার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদ । জন্ম নিয়েছে প্রাদেশিকতা । এ শিক্ষা মনের অন্ধকার দূর করতে পারেনি । পারেনি উদার মানবিকতায় সমগ্র জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে ।

ছাত্রসমাজই হলো দেশের সবচেয়ে আদর্শপ্রবণ , ভাবপ্রবণ অংশ । তারাই দেশের ভবিষ্যৎ , জাতির কাণ্ডারী । তাদের আছে বুকভরা সাহস । শিক্ষার বড় কথা আত্মবিকাশ , যুক্তিবাদ । সেই যুক্তির আলোকে ছাত্ররা জেনেছে ভারত এক মহামিলনের তীর্থভূমি । জেনেছে বিভেদের মধ্যে ঐক্যস্থাপনই ভারতের লক্ষ্য । শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন তাই অপরিহার্য । পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব , আন্তরিক মেলামেশার মধ্যে দিয়েই অভ্যুদয় হবে এক নতুন প্রজন্মের । তারা নতুন করে অনুভব করবে মানবতার মহিমা । শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নয় , সুকুমার বৃত্তিগুলোর যথাযথ বিকাশেই শিক্ষার পূর্ণতা , সার্থকতা ।

আজও সাম্প্রদায়িকতার বিষ – নিশ্বাসে বাতাস বিষাক্ত । আজও বর্ণবিরোধ , ভাষা – বিভেদের চিত্র । বিদেশী প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বলছে অসমে , মেঘালয়ে । আদিবাসী সমস্যাকে ঘিরে ত্রিপুরায় চলছে নরনিধন যজ্ঞ । অমেদাবাদ – মোরাদাবাদের পথ হিন্দু – মুসলমানের রক্ত – সিক্ত । পাঞ্জাব অশান্ত । ঘরে ঘরে স্বজন হারানোর হাহাকার । আজ দার্জিলিঙের পাহাড়ী এলাকাও রক্ত নেশায় নৃত্য ।

আজও বিহার – উত্তরপ্রদেশে ধিকিধিকি জ্বলে পুরনো সাম্প্রদায়িক পাপের আগুন । আজও উন্মত্ত হিংসার আগুনে মরে কত হরিজন । লাঞ্ছিত হয় আদিবাসী রমণী । বর্শা – বিদ্ধ হয় অচ্ছুৎ যুবক । নির্যাতিত হয় অনুন্নত সম্প্রদায় । তারুণ্যের উচ্ছাসে কখনও কখনও ছাত্ররাও এর সামিল হয় । অদূরদর্শী , বিবেকহীন নেতারাই হীন স্বার্থবুদ্ধি চরিতার্থ করার জন্যে ছাত্রদের ব্যবহার করে । দেশপ্রেমের নামাবলী গায়ে দিয়ে তারা ছাত্রদের উস্কানি দেয় । এক্ষেত্রে ছাত্রদের উচিত ভণ্ড , স্বার্থসর্বস্ব নেতাদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া । প্রয়োজন সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সাম্প্রদায়িকাত স্তব্ধ করে দেওয়া ।

ছাত্ররাই হল দেশের ও জাতির চিরজাগ্রত প্রহরী । তারাই দেশ ও জাতি গঠনের মহান সৈনিক । আজ সাম্প্রদায়িক মত্ততার দিনে , অশুভ শক্তির রাহুগ্রাসের দিনে , মনুষ্যত্ব হরণের পাশব চেষ্টার মুহূর্তে , ছাত্ররাই দেখাবে নতুন দিনের পৃথ । তারাই নতুন যুগের নতুন বাণীর বাহক । তারাই সংহতি – চেতনার অগ্রদূত । ছাত্রসমাজের কাছে নতুন যুগের , নতুন কালের অনেক প্রত্যাশা । অনেক নির্ভরতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here